শতাধিক ব্যাক্তির কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ট্রাভেল এ্যাজেন্সি

শতাধিক ব্যাক্তির কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ট্রাভেল এ্যাজেন্সি

রাজধানীর উত্তরায় শতাধিক ব্যক্তির কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা একটি ট্রাভেল এ্যাজেন্সি । এমন ঘটনায় শুক্রবার উত্তরা পশ্চিম থানার সামনে জড়ো হয় প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী। ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৮ জন ভুক্তভোগী বিদেশে যাওয়ার প্রলোভনে পরে প্রতারণার স্বীকার হওয়ার ঘটনা উল্ল্যেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী রহিম,মিম,মাহফুজ,ইকবাল,সৌরভ,সেলিম,মাকসুদা ও আবু সাইদ এর পক্ষে বাবু (৩১) নামে এক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গেল বছর ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানে গার্মেন্টস কর্মী পাঠানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেইসবুক পোষ্ট করে উত্তরার ৭ নাম্বার সেক্টরের ৩৫ নাম্বার রোডের ৩ নাম্বার বাড়িতে অবস্থিত রিভার রক ট্যুর এন্ড ট্রাভেল নামের একটি এ্যাজেন্সি।

বিজ্ঞাপন দেখে ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন মিয়া (৩০) ও তার সহযোগী বাদশা মিয়া (৩০) ,শফিক (২৮) ও লিমা (২৬) এর কাছে ১ লাখ,৫০ হাজার , ১লাখ ১০ হাজার সহ বিভিন্ন অংকের প্রায় ৩ কোটি টাকা প্রদান করেন।

 

এসব টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি ভুক্তভোগীদের সাথে চুক্তি নামা করেন। যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে সকল পক্রিয়া শেষ করে জর্ডানের উদ্দেশ্যে তাদের বিমানে তুলে দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ কয়েক মাস কোন পক্রিয়ার বালাই না থাকায় গত ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ভুক্তভোগীরা উপস্থিত হলে কোন সুরাহা না পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ এ কল করেন তারা। এসময় পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ৩০ জানুয়ারী ভুক্তভোগীদের টাকা এবং পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি আস্বস্ত করেন।

 

পরবর্তীতে শুক্রবার ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ভুক্তভোগীরা উত্তরা পশ্চিম থানায় এলে এস আই দীপঙ্করকে না পেয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সম্পর্কে এসআই দীপঙ্করের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক আখন্দ বলেন,ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে আমরা রিভার রক ট্যুর এন্ড ট্রাভেল এর সাথে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে অর্থ লেনদেন করি। কিন্তু আমরা বিদেশে যেতে না পেরে উত্তরা পশ্চিম থানার সহযোগীতা চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সহযোগীতা পাইনি।

নরসিংদীর ভুক্তভোগী ফরহাদ বলেন, তিনি একাই ৭ টি পাসপোর্ট এবং ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে জমা দিয়েছেন । এমন শতাধিক ভুক্তভোাগী বিদেশে যাওয়ার প্রলোভনে পথে বসেছেন।
এ বিষয়ে রিভার রক ট্যুও এন্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share