দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি, ভুক্তভোগীর আহাজারি

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি, ভুক্তভোগীর আহাজারি

রাজধানীর উপকণ্ঠ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চাঁদার দাবিতে মারপিটের ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেও বিচার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী । উল্টো অভিযোগকারীর মামলা গ্রহণ না করে থানা পুলিশ রহস্যজনকভাবে কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মনির খান আসামিদের দ্বারা পরিকল্পিত প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতন এবং চাঁদা দাবির শিকার হয়েছেন।

 

​এজাহার সূত্রে জানা যায়, মনির খানের পৈতৃক ও যৌথ সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ ১৮ লাখ টাকা আসামিরা কৌশলে আত্মসাৎ করেছে। এরপর আরও ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনির খানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে তার বাম চোখে গুরুতর জখম করে এবং পকেটে থাকা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় মনির খান চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

 

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি থানায় এজাহার নিয়ে গেলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মামলা গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছেন। বিচারপ্রার্থী হয়ে থানায় ঘুরেও পুলিশের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলছেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশকে ম্যানেজ করার কারণে মামলা রুজু করতে তালবাহানা করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেকোনো আমল যোগ্য অপরাধে এজাহার দায়েরের সাথে সাথেই পুলিশ পিআরবি ১৪৪(ক), সিআরপিসি ১৫৪ ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করতে বাধ্য। কিন্তু ভুক্তভোগীর এমন ভয়াবহ অভিযোগের পরেও মামলা গ্রহণ না করা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে। ​এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।

 

এবিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি কাজে ব্যস্ত। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share