প্রতারক মেহেদী ও তার পরিবারের কুকর্ম এখন দুদকের দিকে মোর নিচ্ছে..
জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর
জামালপুর শহরের কাচারিপাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে রাজকীয় অট্টালিকা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতারক মেহেদী নোমান। সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মদের আড্ডা, আর প্রভাব খাটিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করা এই যুবকের ‘সাম্রাজ্য’ এখন পতনের মুখে। সর্বশেষ আদালতের নথি চুরির চেষ্টা এবং ডিবির হাতে আটকের পর তার বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সরেজমিনে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার মোশারফগঞ্জের সাধারণ পরিবারের সন্তান মেহেদী নোমান বর্তমানে জামালপুর শহরে বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন। গ্যারেজে সাজানো কোটি টাকার লাক্সারি ব্র্যান্ডের গাড়ি। তার নিত্যসঙ্গী বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি মদ (Vat 69)। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—তার আয়ের উৎস কী? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাবেক সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই মেহেদী।সেনাবাহিনীর পদের অপব্যবহার ও সাংবাদিককে হুমকি।
অভিযোগ উঠেছে, মেহেদীর ভাই সেনাবাহিনীর একজন মেজর। এই পদের দাপট দেখিয়ে মেহেদী পাওনাদার ও সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি পাওনা টাকা ফেরত চাইলে উল্টো সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যে মামলা দেওয়ার জন্য জামালপুরের পুলিশ সুপারের কাছে সুপারিশ করানোর মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তার ভাই। তবে পুলিশ সুপারের বুদ্ধিমত্তায় বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসলে মেহেদীর সকল অপকর্ম ফাঁস হতে শুরু করে।
আইনের হাত থেকে বাঁচতে মেহেদী বেছে নিয়েছিলেন আরও ভয়ংকর পথ। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার নথি চুরি করে মামলা ‘ভ্যানিশ’ করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে বিধিবাম! তার সহযোগী হাতেনাতে ধরা পড়ার পর মুচলেকা দিয়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচান। সেই চুরির চেষ্টার অকাট্য প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।
মেহেদীর স্ত্রী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার শাকিরা। অভিযোগ আছে, স্ত্রীর পেশাগত পরিচয়কেও তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। তবে সম্প্রতি সাধারণ জনতা মেহেদীর গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে মদের বোতলসহ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তাকে জামালপুর সদর থানায় হস্তান্তর করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
মেহেদী ও তার পরিবারের এই অস্বাভাবিক উত্থান এবং কালো টাকার পাহাড় তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, মেহেদী, তার ভাই এবং স্ত্রী ডাক্তার শাকেরার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করলেই বেরিয়ে আসবে দুর্নীতির থলের বিড়াল।
প্রতারক মেহেদীকে উদ্দেশ্য করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে— “তোমার খেলার সময় শেষ। টাইব্রেকারে ৫ বল থাকলেও গোল করতে হবে ৬টি, যা অসম্ভব।” অর্থাৎ আইনের জাল থেকে বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নেই এই প্রতারকের।
এখন দেখার বিষয়, দুদক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ‘ভয়ংকর’ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয়।










