মতলব উত্তরে নানা অনিয়ম , মুখ খুলতে নারাজ ইউএনও
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র সাধারণ মানুষের মাঝে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। হুমকির মুখে পড়েছে জনজীবন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে অভৈধ ড্রেজার ।যা দিয়ে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে কেটে খনন করা হচ্ছে জলাশয়,উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। ফলে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি ও ফসল। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনের গন্তব্য ছুটছে অনির্দৃষ্ট কোন পথের দিকে।
অপরদিকে উপজেলার গজরা এলাকার মানব সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করার পরেও কারাগারে যেতে হয়েছে সুমিত্রা রাণী নামে এক নারীকে।
স্থানীয় গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সানাউল্লাহ মোল্লা বলেন, সুমিত্রা রাণী এনজিও থেকে নেয়া অবশিষ্ট ৭ হাজার টাকা দিতে বিলম্ব করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে এনজিও মালিক নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে চাঁদপুর জেলা অতিরিক্তি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে সুমিত্রা রাণীকে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।
এরই মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর এর আগে এনজিও মালিকের হাতে তার উপস্থিতিতে বাকি ৭ হাজার টাকা ও মামালা তুলে নেয়ার যাবতীয় খরচ দেয়া হয়। তবে টাকা বুঝে পাওয়ার পরেও মামলাটি তুলে না নেয়ায় গত ৫ মার্চ সুমিত্রা রাণীকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
আরো পড়ুন: মতলবে জাটকা ধরা বন্ধ রাখলেও বরাদ্ধকৃত চাল পায়নি জেলেরা
এ ঘটনায় একাধিক জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এনজিও মালিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি ইউএনও এ এম জহিরুল হায়াতকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, এনজিও মালিকের সঙ্গে আমার একটি মিটিং আছে। পরে দেখা যাক কি করা যায়।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুসের পরামর্শে গজরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সানাউল্লাহ মোল্লা নিজে বাদি হয়ে এনজিও মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গত ১লা মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ২ মাস ব্যাপী জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি । এ কর্মসূচির অধিনে নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ২ মাস যেকোন প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা থাকায় জেলে প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল বরাদ্ধ রেখেছে সরকার । তবে কর্মসূচি শুরু হয়ে ১০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন প্রকার চাল এখন পর্যন্ত জেলেরা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ।
স্থানীয় কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব বলেন, তিনি এখনো পর্যন্ত তার এলাকার জেলেদের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল পাননি।
এসকল ঘটনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য জানতে ইউএনও জহিরুল হয়াতের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোন কেঁটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কে জানানো হলে তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান বলেন, বিষয় গুলো জেনেছি। যথাসম্ভব প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, পুরো জেলায় বিভিন্ন এলাকায় সর্বমোট ১০০ শয্যা বিশিষ্ট কোয়ারেন্টাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কোন রোগী শনাক্ত হয়নি।









