বার্সার সামনে বেলারুশ চ্যাম্পিয়নরা
স্পোর্ট ডেস্ক .টুডে টাইমস
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার বাতে বরিসভের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। বেলারুশ চ্যাম্পিয়ন বাতে বরিসভ টানা দশমবারের মতো ঘরোয়া লিগ শিরোপা জয়ের চারদিন পর আত্মবিশ্বাস নিয়েই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে।
সফরকারী বার্সেলোনা ও স্বাগতিক বাতে বরিসভের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি আগামী মঙ্গলবার বরিসভ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি কিক্স।
শুক্রবার লিগ ম্যাচে এফসি ভিতেস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচ বাকি থাকতেই টানা দশম শিরোপা ঘরে তুলে বাতে বরিসভ। ফলে মঙ্গলবার ঘরের মাঠে লুইস এনরিকের বার্সেলোনার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই মাঠে নামতে পারবে বেলারুশ চ্যাম্পিয়নরা।

লিওনেল মেসিকে হারিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছে না বার্সেলোনার। লিগের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। স্প্যানিশ লা লিগায় সর্বশেষ তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচের দুটিতেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। তবে শনিবার ঘরের মাঠে নেইমারের চার গোলের সুবাদে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেয় লুইস এনরিকের দল। যদিও ভায়েকানোর বিপক্ষে দুই গোল হজম করাটাও বেশ ভাবাচ্ছে কাতালান ক্লাবটিকে।
লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাও ও মালাগার সমান ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। তবে এরপর প্রতিযোগিতামূলক আট ম্যাচের সবগুলোতেই গোল হজম করে কাতালানরা। এর মধ্যে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে চার গোল এবং ভায়েকানোর বিপক্ষে দুই গোল হজম করে গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ীরা।
রক্ষণটা যে ভাবনার বিষয় সেটি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন বার্সা কোচ লুইস এনরিকে, ‘আমরা রক্ষণ নিয়ে কাজ করছি। শিরোপা জিততে হলে আপনাকে বেশি গোল করতে হবে এবং যথাসম্ভব কম গোল হজম করতে হবে এবং আমরা এটি নিয়েই কাজ করছি।’

এনরিকের জন্য স্বস্তির সংবাদ হলো- রক্ষণের শক্তি বাড়াতে মঙ্গলবারের ম্যাচে তিনি থমাস ভারমালেনকে পাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ইনজুরির কারণে বার্সেলোনার হয়ে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৬৩ মিনিট খেলেছেন বেলজিয়ান তারকা ভারমালেন। ইনজুরি কাটিয়ে বেশ কিছুদিন আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিলেও শনিবার লিগ ম্যাচে তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেননি এনরিকে। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে বাতে বরিসভের বিপক্ষে তাকে নামাতে ভুল করবেন না তিনি।
লিওনেল মেসির পাশাপাশি রাফিনহা ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও ইনজুরির কারণে বাতে বরিসভের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। ফলে মূল দায়িত্বটা এসে পড়বে নেইমার, সুয়ারেজ ও মাচেরানোর ওপর।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে রোমার সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। দ্বিতীয় ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা লিওনেল মেসিকে ছাড়া পিছিয়ে পড়েও বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যচে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ৪-১ গোলে ‘বিধ্বস্ত’ হওয়া বাতে বরিসভ দ্বিতীয় ম্যাচে এসে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাকে হতবাক করে দিয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলারুশ চ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য অতীত ইতিহাস বার্সেলোনাকে সাহস জোগানোর পাশাপাশি বাতে বরিসভের মনে ভীতি জাগাতে পারে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুই দলের দুবারের সাক্ষাতেই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার কাছে পাত্তা পায়নি বেলারুশ চ্যাম্পিয়ন বাতে বরিসভ। ২০১১-১২ মৌসুমে বেলারুশ থেকে ৫-০ গোলে জয় নিয়ে ফেরার পর ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে বাতে বরিসভকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বার্সেলোনা।
স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে বাতে বরিসভের অতীত ইতিহাসও আশাব্যঞ্জক নয়। স্প্যানিশ দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ বারের সাক্ষাতে ৯ বারই পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলারুশ চ্যাম্পিয়নরা। স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে তাদের একমাত্র সুখস্মৃতিটি গত মৌসুমের। আগের মৌসুমের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিজেদের মাটিতে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে পরাজিত করেছিল বেলারুশের দলটি।
গোল হজম করার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও ভীতি জাগতে পারে বাতে বরিসভের খেলোয়াড়দের মনে। চ্যাম্পিয়নদের লিগের সর্বশেষ ২০ ম্যাচেই এক বা একাধিক গোল হজম করে মাঠ ছাড়ে বেলারুশ চ্যাম্পিয়নরা। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে জুভেন্তাসের বিপক্ষে গোল হজম করেনি তারা। ঘরের মাঠে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সেবার গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেয় বরিসভ।











