ফেইসবুক নেতা
বেশ কদিন ধরে ঢাকা শহরের একাংশে নতুন নেতার পোষ্টার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। কে এই নেতা ? তাকেতো কখনো সাধারণ মানুষ মাঠে ঘাটে দেখেনি ! মিটিং মিছিল তো দূরের কথা! পোষ্টার ও দেখতে খুব আকর্ষণীয়,লাল সবুজের গাড় রঙ্গে গ্রাডিয়েন্ট কালার,উপর অংশে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এর ছবি ও শোভা পাচ্ছে । গোঁফহীন দাড়ির ওয়েষ্টার্ন চোহারার কে এই নেতা? তবে এটুকো বোঝা যায়, সে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এর কেউ একজন । কোন পদ-পদবী নেই, পোষ্টারে বড় বড় অক্ষরে লেখা “বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার জননী শেখ হাসিনাকে সশ্রদ্ধ সালাম” নিচের অংশে লেখা আছে আদম তমিজি হক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক।তার নিচের অংশে লেখা আছে – ব্যবস্থাপনা পরিচালক হক গ্রুপ।
এবার বোঝা গেল – আদম তমিজি নামের ব্যক্তিটি হক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।কারণ সাধারণ মানুষ বহু বছর ধরে হক গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের সাথে পরিচিত। কৌতুহলী মনে স্বস্তির নি:শ্বাস , অবশেষে তো লোকটার পরিচয় পাওয়া গেল।
যত্রতত্র পোষ্টারিংয়ে শহর নোংরা করার দায়ে জরিমাণা ও গুণেছেন আদম তমিজি হক।৫ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ভ্রাম্যমান আদালত হক গ্রুপের তেঁজগাও কার্যালয়ে গিয়ে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে।
তবে হঠাৎ কেন রাজনৈতিক পদহীন আদম তমিজি হকের এত প্রচার? শুরুতে কিছু আঁচ করতে পারা যায়নি।কেউ কেউ হয়ত ধারণা করেছিলেন ,ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হকের অবর্তমানে মাঠে নামতে পারেন আদম।তবে শেষবেলা এসে সেটাই প্রমাণিত হলো। ১৩ জানুয়ারী তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর এর মেয়র প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্যে আওয়ামলীগ এর মনোনয়ন পত্র কিনেছেন । বিপত্তি ঘটে তখনই, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সেসময় তার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের উপর চটে যান তিনি। তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ টাকা দিলেই অনেক সাংবাদিক পাওয়া যায়, সাংবাদিকের অভাব হয় না।আগে আপনারা কোথায় ছিলেন? আজ আমি যখন নমিনেশন ফরম নিতে এসেছি তখন আপনাদের আমার দিকে নজর পড়েছে? এতদিন তো আপনারা সবাই আতিকুল ইসলামের পিছনে ছুটেছেন। আজ যখন বুঝেছেন আমি মেয়র হতে যাচ্ছি, তখন আপনারা আমার পিছু নিয়েছেন। ” উল্লেখ্য,বিজিএমই এর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও আওয়ামীলীগ এর মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে গণমাধ্যমের তথ্যমতে তিনি একটি মাত্র শোডাউন ব্যতিত আওয়ামীলীগ এর দলীয় কোন কার্যক্রমে অংশ নেননি। তবে সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। “টাকা দিলেই অনেক সাংবাদিক পাওয়া যায়” সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তার এ বক্তব্যের পর অনেকেই বলেছেন তারমত অহংকারী ব্যক্তি মেয়র হবেন কি করে! অনলাইন গণমাধ্যম পূর্বপশ্চিম এর সিনিয়র সাংবাদিক উৎপল দাস “আদম তমিজি, আপনি কতটাকার মালিক” শিরোনামে লিখেছেন, “আপনি কত টাকার মালিক? আপনার কিসের এত টাকার গরম? সব সাংবাদিককে এক পাল্লায় মাপার দাম্ভিকতা আপনি কোথায় পেলেন? আরো কিছু প্রশ্ন আছে আপনার কাছে, আওয়ামী লীগের কোন পদে আছেন আপনি? কতদিন দিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন? ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগেও তো কখনো আপনার নামই শুনিনি। আওয়ামী লীগের একটি মাত্র প্রোগ্রামে আপনি শোডাউন করেছিলেন। তখন অর্থের দাম্ভিকতা দেখাতে ভুল করেননি।”
১৫ জানুয়ারী সোস্যাল মিডিয়ায় দেয়া চল্লিশ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন- “আমিতো এখন ব্যবসা করি,এর সুফল পাচ্ছে আমার যারা কর্মচারি তারা এবং তাদের সাথে রিলেটেড তাদের ফ্যামিলি,আমি যদি বড় কিছু করতে চাই সেক্ষেত্রে রাজনীতি করাটা মোটামুটি বাধ্যতামুলক।তা না হলেতো আমি ন্যাশনাল ইম্পেক্ট দিতে পারবোনা।তাই আমি রাজনীতিতে জড়াইয়া গেছি।”
আদম তমিজি হকের নির্বাচনী প্রচারণার পুরোটাই রয়েছে ফেইসবুক জুড়ে- বিভিন্ন অভিনেতাদের বক্তব্যের ভিডিও ফেইসবুকে প্রচার করে মানুষের কাছাকাছি পৌছানোর ভার্চুয়াল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।সেসাথে তিনি তার নিজের ভিডিও বার্তাও ফেইসবুকে প্রচার করছেন। তবে আদম তমিজির পোষ্টার রাজনীতি এবং ফেইসবুক রাজনীতি ভার্চুয়াল জগতের বাইরের মানুষের কাছে কতটা পৌছাবে তা এখন শুধুই অপেক্ষার।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট










