সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় প্রধানমন্ত্রীর আর্শিবাদ চান চাঁদের কনা
আমার ‘মা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) গণভবনে বারবার গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ মেলেনি। কারণ, মা জানেন না ‘‘দরজায় তাঁর অসহায় মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’’ আমারতো কোন রকমের লবিংও নেই !
‘‘মায়ের (প্রধানমন্ত্রীর) সাথে তার মেয়ে দেখা করবে, তাতেও নানা বাঁধা-বিপত্তি; তাহলে আমার জীবনের কষ্টের কি কোন সমাধান হবেনা’’ ?
প্রিয় বন্ধু ও শুভানুধ্যয়ী,
সালাম, শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল। সৃষ্টিকর্তা তোমাদের সুস্থ রাখুন, দীর্ঘজিবী হও সকলে। আমিন। আমার ‘মা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) কাছে আমার পৌঁছানোর একমাত্র পথ তোমাদের সবার দোয়া ও ভালবাসা। সুতরাং তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ তোমরা বেশী বেশী আমার পোষ্ট শেয়ার করো। আমার মনের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে দাও, আমাকে পৌঁছে দাও আমার ‘মা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) কাছে। হয়তো তোমাদের মাধ্যমেই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। ইন্শাল্লাহ্।
পৃথিবীতে আসতে না আসতেই পা’দুটির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেল। পরিবারের সবার ব্যস্ততার জন্য আশ্রয় মিললো দূর সম্পর্কের এক ফুফুর কাছে। আমার নাওয়া-খাওয়া, যত্ন নেওয়া এমনকি আমার খেলার সাথীও ছিলেন সেই ফুফু। ধীরে ধীরে নিজের পরিবারকে ভুলে ফুফুই হয়ে উঠলেন আমার সবচেয়ে আপন, তাকেই মা বলে ডাকতাম। মূলত তিনিই ছিলেন আমার পৃথিবী। আমার বয়স ৩/৪ বছর না হতেই আমার চোখের সামনেই ফুফু আগুনে পুড়ে মারা যায়। আমি আমার পরিবারে ফিরে আসি। কিন্তু তাদের সাথে আমার দূরত্ব থেকেই যায়, কারণ তারা সবাই ব্যস্ত মানুষ। তাই অসুস্থতা আর এককীত্বতা নিয়ে শুরু হয় কষ্টের এক অন্ধকার জীবন।
অনেক কষ্টে স্কুলে ভর্তি হয়েও ক্লাস করার সুযোগ হলোনা। কারণ, কোন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতেই র্যাম নেই; লিফ্ট নেই; নেই ব্যবহার উপযোগী টয়লেট ব্যবস্থাও। তাই আমার কোন খেলার সাথী নেই, নেই কোন বন্ধুও। খেলতে গেলে হাঁটতে পারিনা বলে সমবয়সী ছেলে মেয়েরা দূরে সরিয়ে দেয়; পাশের বাড়ি গেলে হাতের কাজ ধরিয়ে দেয়; আত্নীয় বাড়ি গেলে অচেনা ছোট ছোট বাচ্চারা পাগল বলে ঢিল ছোঁড়ে; নিজের বারান্দায় বসে থাকলেও অপরিচিত কেউ এসে হঠাৎ করেই জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘‘এই বাড়িতে একটা লুলা মেয়ে ছিল সে কি বেঁচে আছে, নাকি মরে গেছে’’? কারণ, বেশীর ভাগ মানুষই আমাকে দেখে বুঝতে পারেনা যে, আমার পায়ে কোন সমস্যা আছে, তাই হয়তো ভুল করে মুখের সামনেই উল্টা-পাল্টা কথা বলে ফেলেন। কিন্তু কথা বলার আগে একটি বারও ভাবেননা, এই কথাগুলো কাউকে অনেক বেশী কষ্ট দিতে পারে। তাই স্কুল, খেলার মাঠ, পাশের বাড়ি, আত্নীয়-স্বজন এমনকি নিজের বাড়ির বারান্দা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিলাম। নিজেকে বন্ধী করে ফেললাম চার দেয়ালের মাঝে।
আমার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ ছিলনা, প্রায়ভেট পড়ার মতো আর্থিক অবস্থাও ছিলনা। তাই আমার সময় কাটতে থাকে, কখনো কাগজ কেটে নকশা করায়; কখনো গান শোনায়, কখনো গল্পের বই পড়ায়; আর কখনো বা কষ্টের তীব্রতায় কান্না-কাটি করায়। পৃথিবীর উপর নিজের এতবেশী অভিমান হলো যে, আমি রাতকে দিন আর দিনকে রাত ভাবতে শুরু করলাম। পাল্টিয়ে নিলাম নিজের জীবন প্রণালীকে। তাই আমি ভোরের আযান শুনে ঘুমিয়ে পড়তাম আর সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠতাম। আর সারারাত কাটাতাম কাগজ কেঁটে, গান শুনে, আর চোখের জলে বুক ভাসিয়ে। আর একটা কথা ভেবে খুব শান্তি পেতাম যে, আমার কষ্টগুলো কেবল আমারী। কেউ দেখছেও না, জানছেও না।
ছোট্ট একটি মেয়ে, ছোট্ট একটি মন; ছোট্ট এই মনে হাজারো কষ্টের জ্বালাতন। ছোট্ট এই বুকটাতে ভীষণ যন্ত্রণা হতো, মনে জন্ম নিতো হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু কোন প্রশ্নের উত্তরই মিলাতে পারতাম না; শুধু বুঝতাম বুকের বাম পাশে প্রচুন্ড কষ্ট অনুভব হচ্ছে যা কেউ দেখতে পাচ্ছেনা। আমার জীবনের এমন কোন রাত নেই, যে রাতে আমার বুকটা চোখের জলে ভেজেনি। বলতে গেলে আমার বালিশটা কখনো শুকাতেই পারতোনা আমার চোখের জলের যন্ত্রণায়।
সবাই বলে ‘‘আল্লাহ্ যা করেন, ভালোর জন্যেই করেন’’। তাই নিজের কষ্টগুলোকে মঙ্গল হিসেবেই মেনে নিয়েছি সবসময়। ‘‘কষ্টের পর একদিন সুখ আসবেই’’। তাই সুখের অপেক্ষাতেই কেটে যাচ্ছে ৩২টি বছর। জানিনা এর শেষ কোথায়?
‘‘আল্লাহ্ সবই পারেন, তাই কাউকে সুখ আর কাউকে দুঃখ দিয়ে সবাইকে বুঝাতে চেয়েছেন তোমরা এটা থেকে শিক্ষা নাও’’। কিন্তু আমি শুধু ভাবতাম, আমিতো ঘর থেকে বেড়ই হইনা, আমার কষ্টের কথা কেউ জানেনা। কারণ আমি নিজেকে কখনোই প্রকাশ করিনা। আর মানুষের সাথে যখন কথা বলি তখন আমি সব সময় হাসি মুখে থাকি, লুকিয়ে ফেলি আমার কষ্ট গুলোকে। তাহলে মানুষ আমাকে দেখে কি শিখবে কি জানবে ? আমার সাথে মানুষের দেখা হয়না বললেই চলে। আমার এমনও সময় গেছে, একটানা তিন মাস চলে গেছে, দিনের আলো কি আমি জানিই না। এভাবে বছরের পর বছর পার হয়ে গেছে আমি কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলিনি। তাহলে আমাকে সৃষ্টি করার মানে কি ? আর এতটা যন্ত্রণা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখারই বা রহস্য কি ? তাই আমি কখনো কখনো ফুল ভলিউমে ক্যাসেট প্লেয়ার অন করে চিৎকার করে কাঁদতাম, যেন ক্যাসেটের শব্দে আমার কান্নার আওয়াজ বাইরে না যায়। আর আল্লাহ্কে বলতাম ‘‘হে আল্লাহ্, এই বেঁচে থাকা অর্থহীন; কোন মানে নেই আমার এই জীবনের; তুমি আমায় সুখ দাও; আর যদি তা না পারো, তাহলে মেরে ফেলো আমাকে; আমি এই অসহ্য, একাকী জীবন নিয়ে এভাবে আর এক মুহুর্ত বাঁচতে চাইনা’’।
নানা কষ্টের মধ্যে দিয়েই জীবন থেকে ঝরে গেল ১৮টি বছর। আমি এইচএসসি পাশ করলাম। কোন কিছুই যেন ভালো লাগেনা আমার, কোন কাজেই মন বসেনা, শুধু অস্তির লাগে প্রতিটি মুহূর্ত। একদিন অনেকটা বিরক্তি নিয়েই টিভিটা অন করলাম। দেখলাম কোন এক চ্যানেলে লাইভ প্রোগ্রাম চলছে। সেখানে একটি মেয়ে কন্ঠশিল্পী ও একজন মেয়ে উপস্থাপিকা আছে। তারা দুজন দুজনের রুপের আর পোশাকের প্রশংসা করছিল; এর মাঝেই একজন দর্শক কল করে আর, সেও ভীষণ প্রশংসা করতে শুরু করে। অনুষ্ঠানটা দেখে হঠাৎ মনে প্রশ্ন এলো, তারা দুজনই মেয়ে আর আমিও তাদের মতই একটি মেয়ে। তাহলে আমি কেন তাদের মতো নই ? তাদের সারা দেশ চেনে, সবাই তাদের চেয়ে চেয়ে অধির আগ্রহ নিয়ে দেখছে; প্রশংসা করছে; অথচ আমিও ঠিক তাদের মতো একজন হয়ে কেন আজ অন্ধকারে পড়ে আছি ? কেন আমার জীবনে কোন আলো নেই ? কেন আমাকে কেউ চেনেনা ? কেন তাদের জীবনটা এত ঝলমলে আর আমারটা শুধুই কষ্টের ???
জানিনা সেই থেকে মাথায় কি একটা ঠুকে গেল, আর মনটা মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো। কেন জানি মনে হলো আমার মতো প্রতিটি মানুষ খুব কষ্টের মধ্যে আছে, কিন্তু তাদের আলোর পথ দেখানোর কেউ নাই, তাই আমি তাদের মডেল হতে চাই; চাই তাদের আলোর পথ দেখাতে, আর সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু একজন মডেল হওয়া তো মুখের কথা নয়, মডেল হতে হলে তাকে অল স্কয়ার হতে হয়। আর আমারতো গত ১৮টি বছর কেটে গেছে জড় পদার্থের মতো। তাই আর দেরী করলে চলবেনা। এবার নিজেকে তৈরী করার সময়। তাই পরিবারের সাথে জেদ করে বাড়ির বাইরে অনার্সে ভর্তি হোলাম। আর পড়াশোনার পাশাপাশি ‘‘নাচ, গান, কবিতা লেখা ও আবৃত্তি, টিভি/রেডিও-তে সংবাদ পত্র পাঠ, টিভি প্রোগ্রাম গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা; গল্প বলা, নাটক লেখা ও নাটকে অভিনয়, কম্পিউটারের সকল কাজে দক্ষতা, ক্রীপ্ট তৈরী, আর্ট ও ডিজাইনে দক্ষতা, ছবি আঁকা, ভিডিও এডিটিং, হাতের কাজে নানান ধরনের পারদর্শিতা এছাড়াও ভার্সিটিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় দাবা, ক্যারাম, গান, কবিতা আবৃত্তি ও ভাড়উত্তোলনে মেয়েদের মধ্যে বরাবর চ্যাম্পিয়ান হতে শুরু করলাম’’। সমস্ত দুঃখ, হতাশা ভূলে নিজেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ করে তৈরী করার মধ্যে দিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল আমার দিন গুলো। কিন্তু মাত্র ৬ মাস পরেই আমার মা মারা যায়। থেমে যায় জীবনের চাকা। গতিহীন আমি আমাবর্ষার চাঁদের মতোই আবারও হারিয়ে যাই অন্ধকারের অতল গর্ভে। পড়াশোনা আর শখের জগৎ ছেড়ে আবারও চোখের জলে ভাসতে থাকে আমার জীবন।
কিন্তু আমি হার মানতে রাজি নই। কারণ, এই অল্প কিছুদিনেই বুঝে গিয়েছিলাম; জীবনে ভালো থাকার জন্য সফলতার বড় প্রয়োজন। আর সফল হতে হলে পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। কারণ শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়, আর মেরুদন্ডহীন মানুষ জড় পদার্থের মতোই। তাই মানুষ আমাকে মুল্যহীন, অকেজো, অচল যাই ভাবুক না কেন; আমাকে সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। কারণ, আমি সারাজীবন কষ্ট আর যন্ত্রনা নিয়ে বাঁচতে চাইনা। আমি সফল জীবন চাই, ভালো থাকতে চাই, আর আমার মতো মানুষ গুলোকে ভালো রাখতে চাই। তাই নিজের মনের জোড় আর সামন্য একটু কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েই চাকরী খুঁজতে শুরু করলাম। নানা কটুক্তি, অবজ্ঞা আর অবহেলা পাওয়ার পরেও আমি আমার চেষ্টা অব্যহত রাখলাম। অবশেষে ভাগ্যের জোড়ে আর মাই টিভির চেয়ারম্যান স্যারের আন্তরিকতায় তার চ্যানেলে প্রোগ্রাম প্রডিউস্যার হিসেবে খুব অল্প বেতনে একটা চাকরী হয়ে গেল। যদিও ওই বেতনে মাসের বেশীর ভাগ সময় আমাকে না খেয়েই থাকতে হতো, তবুও আমি অনেক খুশী ছিলাম কারন, আমি আবার পড়াশোনা শুরু করতে পেরেছি। আর পড়াশোনা শেষ করতে আমাকে যে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তা কেবল আল্লাহ্ ভালো জানেন।
জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে, শারীরিক মানসিক আর্থিক সমস্যা নিয়ে চলতে চলতে আর জীবনটাকে নিয়ে ছুটতে ছুটতে আজ আমি বড় ক্লান্ত। কাঁদতে আমার আর ভালো লাগেনা, কষ্ট আমার অসহ্য লাগে। দেহটাকে এখন বড় বেশী ভারী বলে মনে হয়, আমি আর আগের মতো একা চলতে পারিনা, কাউকে আমার পাশে বড় বেশী প্রয়োজন। কিন্তু কাউকে পাশে রাখার জন্যেও নিজের একটা যোগ্যতার প্রয়োজন, ভালো একটা জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন। ঘরে আমার অসুস্থ বাবা, ছোট দুইটা ভাই। দেখতে দেখতে আমার বয়স ৩২। আমার নিজের একটা বাড়ি (আশ্রয়) দরকার, চলার জন্য একটা গাড়ি দরকার আর এই জন্যেই যোগ্যতা অনুযায়ী একটা সরকারী চাকরী দরকার, আর জীবনের চরম মুহুর্তের কথা ভেবে ব্যাংকেও কিছু জমানো টাকা থাকা দরকার। আসলে আমাদের জীবনটাই হচ্ছে অর্থ নির্ভর। সমাজের মানুষ গুলো এমনিতেই আমাদের সম্মান করতে চায়না। এক কথায় মানুষই ভাবেনা আমাদের। তাই একমাত্র শুধুমাত্র ভালো একটা পজিশনই পারে সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ। কিন্তু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কোন রাস্তাই আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কারণ, হাজার চেষ্টা করেও আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।
আমার জীবনের চরম এই মুহুর্তে শুধুমাত্র একজন মানুষই আমাকে আমার কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারেন, আর সে হলো আমার মা (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী)। কিন্তু তার কাছে পৌঁছানোর কোন রাস্তা আমার জানা নেই। আমার ‘মা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) গণভবনে বারবার গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ মেলেনি। কারণ, মা জানেন না ‘‘দরজায় তাঁর অসহায় মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’’ আমারতো কোন রকমের লবিংও নেই ! তাই কোন পথ খুঁজে না পেয়ে আমি মনের কষ্টে মায়ের (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য গত ২৬/০৬/২০১৯ইং তারিখে অনশনে বসে ছিলাম। কারণ, আমার চাকরীর বয়স শেষ। আর আমার বিশ্বাস ছিল; আমার সাংবাদিক ভাই-বন্ধুদের ভালোবাসায় আমার কথা আমার মা (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) ঠিকই শুনতে পারবেন। হ্যাঁ ঝড়-বৃষ্টিসহ আরো নানান সমস্যা নিয়ে ৪ দিন অনশন করার পর, আমার কাছে খবর এলো আমার মা (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) আমার বিষয়ে অবগত আছেন এবং তিনি তার অধিনস্ত কর্মকর্তাকে আমার কর্মসংস্থানের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। মুহুর্তেই সেই খবর সকল পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ ছড়িয়ে পড়ে। ভীষন ভালো লেগেছিল সেই দিন। জীবনের প্রথম আমি অনুভব করেছিলাম সুখ নামের অদৃশ্য বস্ত্তটাকে। কিন্তু তাতেই কি সমাধান হয়েছিল আমার কষ্টের জীবনের ???
কয়দিন পরেই আমার কাছে কল এল, এবং আমাকে বলা হলো ‘‘আপনার জব হয়ে গেছে, আপনি নিয়োগ পত্র নিয়ে যান’’। আমি জানতে চাইলাম কোথায়, কোন পদে। জানতে পারলাম, তৃতীয় শ্রেণির একটি চাকরী। যে চাকরী আরো দের মাস আগেই আমার হয়েছিল। কিন্তু আমি জয়েন করিনি, কারণ তাতে আমার কোন ভবিষৎ নেই। আর অনশনে আমার প্যাকার্ডে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘‘যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারী চাকরী চাই’’। তাহলে এত কষ্টের পরে এটাই কি আমার ভাগ্যে লেখা ছিল ? আমি তাকে সরাসরি বলে দিয়েছি, এই জব আমি করবো না। আমাকে আমার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিতে হবে, নয়তো আমি অন্য কোন জবে জয়েন করবো না। কিন্তু তারা তাতে খুব বেশী সম্মতি দেখায়নি এবং এখনও পর্যন্ত কোন খোঁজ খবর রাখেননি। তাই বাধ্য হয়ে আমি আমার মা’কে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে) একটি চিঠি লিখি। কিন্তু দুইদিন গণভবনে গিয়েও আমি আমার চিঠি মায়ের (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) কাছে পৌঁছাতে পারিনি। কারণ, ঘুরে ফিরে সেই একটাই সমস্যা; লবিং নাই। কি নিষ্ঠুর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। মা (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) মেয়েকে চেনেন, মেয়ে মায়ের (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর) কাছে যাবে তাতেও নাকি লবিং দরকার। এ কেমন দুনিয়া ? যেখানে মা’কে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে) তার মেয়ে আসার খবরটা পর্যন্ত পৌঁছানো হয়না ? তবে কি আমি আবারও হারতে বসেছি ? না এটা আর কখনোই সম্ভবনা। আমি নুসরাত আর তিতাসের মতো মরার পড়ে পেপারের শিরোনাম হতে চাইনা। জীবন একটাই, আর এই একটা জীবনে আমি নতুন করে হেরে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দিতে রাজি নই। কারন আমার হেরে যাওয়া মানে আড়াই কোটি মানুষের (প্রতিবন্ধী মানুষের) হেরে যাওয়া। তাই আমাকে আমার জীবন যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। ফেরার আর কোন পথ নেই আমার।
জীবনের অনেক গুলো বসন্ত আমার শেষ হয়ে গেছে, জীবনের কোন আনন্দ-উৎসবে আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। প্রতিটি ঈদেই ভাবি, এবারে ঈদে জামা কিনতে পারিনি তাতে কি, সামনের ঈদে কিনবো, এখন বাইরে ঘোরার টাকা নেই, তাতে কি, একদিন অনেক টাকা হবে তখন আমি নিজে ঘুরবো আর অসহায় মানুষকে তাদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবো। কিন্তু এসব কল্পনাতেই রয়ে গেছে। বাস্তবে কিছুই পূরণ হয়নি আমার। আর এভাবেই শেষ হয়ে ৩২ টি বসন্ত। কিন্তু এবার আমি সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে দেব, হেরে যাওয়ার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আমি এবার এটাও দেখিয়ে দেব যে, মা (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) মেয়ের ভালোবাসায় কোন লবিং-এর দরকার হয়না। এবার মা’ই (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) তার মেয়ে ডেকে বুকে জড়িয়ে নেবেন এবং একই সঙ্গে সারা বিশ্ব জানবে, আমার ‘মা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) একজন সফল জননেত্রী, দেশরত্ন ও দেশমাতা, আমরা সবাই তার সন্তান, আমরা হারতে শিখিনি; পরাজিত হওয়া আমাদের রক্তে নেই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।










