হাওরে মরেছে হাজার মেট্রিক টন মাছ ও হাঁস

হাওরে মরেছে হাজার মেট্রিক টন মাছ ও হাঁস

চলতি দুর্যোগে হাওরে মোট এক হাজার দুই শত ৭৬ মেট্রিক টন মাছ মারা গেছে। এছাড়া মারা গেছে ৩ হাজার ৮৪৪টি হাঁস। পানিতে অক্সিজেন একেবারেই কমে যাওয়ায় এবং অ্যামোনিয়া ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে মাছ মারা গেছে। আজ সোমবার মৎস্য অধিদপ্তর হাওরের পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। হাওরের পানিতে ধানগাছ পঁচার কারণে সেখানে প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাঙ্কটন তৈরি হওয়ায় এবার মাছের পোনা আগাম অবমুক্ত করা গেলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে—এ কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, বন্যার কারণে যেসব এলাকার হাওরে পানি দূষিত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোর সব মাছই মারা গেছে।
তবে পানিতে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মাছের জীবন-ধারণের জন্য মোটেও অনুকূল ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনের সময় অনেক মৃত মাছ মুখ খোলা অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া মাছের ফুলকা ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। এভাবে মৃত্যু প্রমাণ করে যে অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। সার্বিক দিক পর্যালোচনায় প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বোঝা যায়, হাওরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের অস্বাভাবিক ঘাটতি এবং অ্যামোনিয়ার বৃদ্ধির কারণে মাছের ব্যাপক মড়ক হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন যে মাছ মারা গেছে তা যেন দেশে কোনো সংকট তৈরী না করে সেজন্য হাওরে নতুন করে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।
এদিকে, হাওরের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share