ভুয়া ডিবি চক্রের মূল হোতা শহীদ সহ ৮ জন র‍্যাবের হাতে আটক

ভুয়া ডিবি চক্রের মূল হোতা শহীদ সহ ৮ জন র‍্যাবের হাতে আটক

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত শহীদ-কামাল গং এর মূল হোতা শহীদ, কামাল এবং তাদের সহযোগী ০৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১  । এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকিসহ ডাকাতির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ২৮ অক্টোবর রাত ১০:৪৫ মিনিটে র‍্যাবের-১, উত্তরা, ঢাকার একটি  দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার ঢাকা টু গাজীপুর মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে চেরাগ আলী ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয়  ৮ সদস্যকে আটক করে।

আটককৃতরা হলো: ১) মোঃ শহিদ আকন্দ (৪২), পিতা- মোঃ ইসহাক আকন্দ, সাং- গিলাবাদ, ইউপি- দাউদখালি, থানা- মঠবাড়িয়া, জেলা- পিরোজপুর, বর্তমানে- সাং- তালতলির মাঠ, চৌধুরী ভিলা, থানা- কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর, ২) মোঃ জাকির হোসেন কামাল (৩৫), পিতা- মৃত চেরাগ আলী হাওলাদার, সাং- চর বয়ড়া, ইউপি- লেবুখালি, থানা- দুমকী, জেলা- পটুয়াখালী, বর্তমানে- সাং- গাজীপুরা পুকুরপাড়, কামাল সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর, ৩) মোঃ শাজাহান (৩৫), পিতা- মৃত অলি মাঝি, সাং- চর কাজল, ইউপি- চরকাজল, থানা- গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী, বর্তমানে- সাং- তালতলির মাঠ, চৌধুরী ভিলা, থানা- কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর, ৪) মোঃ মাহাবুব মানিক (৩১), পিতা- মোঃ জয়নাল হোসেন মিস্ত্রি, সাং- হাগুড়া কুড়ি, ইউপি- ফুলবাগচালা, থানা- মধুপুর, জেলা- টাঙ্গাইল, বর্তমানে- সাং- গাজীপুরা, হাজী সিরাজুল ইসলাম সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর, ৫) বাবু ইসলাম @ পিচ্চি বাবু (২৮), পিতা- মোঃ আনিসুল ইসলাম, সাং- মুন্সীপাড়া, ওয়ার্ড নং-০৬, থানা- কিশোরগঞ্জ, জেলা- নীলফামারি, বর্তমানে- সাং- নবীনগর, কামাল সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- সাভার, জেলা- ঢাকা, ৬) মোঃ আল আমিন হোসেন (৩৬), পিতা- মৃত মতলেব মৃধা, সাং- হোগল গুনিয়া, ইউপি- ডাকুয়া, থানা- গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী, বর্তমানে- সাং- হাজারীবাগ, নুরুল্লাহ সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- হাজারীবাগ, ডিএমপি, ঢাকা, ৭) মোঃ নুর ইসলাম (২৯), পিতা- মোঃ বিল্লাল হোসেন, সাং- ভাপকী বড়বাড়ি, ইউপি- ভাপকী, থানা- মেলান্দ, জেলা- জামালপুর, বর্তমানে- সাং- গাজীপুরা, রোড নং- ২৭, মুক্তার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর এবং ৮) মোছাঃ আর্জিনা বেগম (২৩), স্বামী- মোঃ কামরুল ইসলাম, সাং- আউশনারা, থানা- মধুপুর, জেলা- টাঙ্গাইল, বর্তমানে- সাং- কাশিমপুর, সুমীর বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- কাশিমপুর, জিএমপি, গাজীপুর’দেরকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের নিকট হতে ০১ টি দেশীয় তৈরি শর্টগান, ০৪ রাউন্ড কার্তুজ, ০১ টি পিস্তল কভার, ০১ টি প্রাইভেটকার, ০২ টি ওয়াকিটকি সেট, ০৩ টি ডিবি লেখা জ্যাকেট, ০৪ টি ধারালো ছুরি, ০১ টি চাপাতি, ২০ টি মোবাইল ফোন, ০১ টি কাটার, ০১ টি গ্রান্ডিং মেশিন, ০১ টি হেক্স ব্লেড, ০৮ টি গাড়ীর নাম্বার প্লেট, ০৩ টি তালা খোলার রড, ০৪ টি ওয়াকিটকি চার্জার, নগদ ৪,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত অপরাধ চক্রের মূল হোতা মোঃ শহিদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল। এই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫/১৬ জন। এই দুইজন মিলে ডাকাত গ্র“পটিকে নিয়ন্ত্রন করত। এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত নানাবিধ অপরাধের সাথে যুক্ত। ডিবি পরিচয়ে তারা বিভিন্ন ধরণের অপরাধ যেমন, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি করে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে ধৃত আসামী শহিদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল এই দুইজন মিলে ডাকাতির জন্য এদের মধ্য হতে আরও লোক নিয়োগ করে থাকে। এই অপরাধ চক্রটি বিগত ২০১৩/১৪ সালে সংঘটিত হয়েছে। এই অপরাধী চক্রটি নিজেদেরকে ডিবি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকত।

সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রটি গাজীপুর মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকারে ও মাইক্রোবাসে করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রথমে টার্গেট নির্ধারণ করে যেমন স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরণের দোকান ইত্যাদি। পরবর্তীতে এই চক্রের ০৪/০৫ জন সদস্য নির্ধারিত টার্গেটে এসে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা রাতের বেলায় বর্ণিত স্থানে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঘুরাঘুরি করে এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করে এবং নাইটগার্ডকে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের এখানে কাজ আছে বলে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করে।

এছাড়াও এই চক্রের সদস্যরা রাস্তায় সাধারণ যাত্রীকে প্রথমে টার্গেট করে। তারপর ভিকটিমদের কাছে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তোলে। প্রাইভেটকারে উঠানোর পর ভিকটিমের হাত-পা বেধে মারধর করে তার কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমের কাছে টাকা না থাকলে বিকাশের মাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। অতঃপর গাড়ীর ভেতরে ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এসময় এই চক্রের সদস্যরা যাত্রী হিসেবে গাড়ীতে থাকে যেন বাইরের কেউ সন্দেহ না করে।

তাছাড়াও এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। প্রথমত তাদের দলের ১/২জন ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাহিরে, ২/৩ জন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। অতঃপর তারা সুবিধাজনক গ্রাহকদের সনাক্ত করতে চেষ্টা করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করে কিন্তু নিজস্ব গাড়ী নেই সাধারনত তাদেরকে টার্গেট করে থাকে। অতঃপর ভেতরের একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাহিরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি তারা মোবাইলের মাধ্যমে মূলদল বাহিরে অবস্থানরত দলকে অবহিত করে থাকে। অতঃপর মাইক্রোবাসটি পেছন থেকে অথবা কখনও সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে ভিকটিমের গতিরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভিকটিমকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। অতঃপর গাড়ীর ভিতরে ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

দলটির সদস্যদের অপরাধকালীন সময়ে স্ব-স্ব নির্দিষ্ট দায়িত্ব পূর্ব হতে বন্টন করা থাকে। যেমন ডিবি অফিসারের ন্যায় ভূমিকায় কে থাকবে, কে হ্যান্ডকাফ পড়াবে, কে টার্গেট নির্ধারন, কে ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগ করবে ইত্যাদি। ধৃত আসামী শহিদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল এই চক্রের প্রধান হিসেবে যাবতীয় বিষয়াদি তদারকি করে থাকে। এই চক্রের সকল সদস্য গাড়ী চালাতে পারদর্শী এবং সকলেই ইয়াবা আসক্ত।

র‍্যাব ১ এর লেঃ কর্ণেল ,অধিনায়ক মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share