ভিপি মিরু  হত্যা মামলার মূল আসামিরা  ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ভিপি মিরু হত্যা মামলার মূল আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সুজন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার:
দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিঙ্গাইর সরকারি কলেজের ভিপি ফারুক হোসেন মিরু হত্যার শিকার হয়েছেন। ভিপি মিরু হত্যার আজ ১৬ দিন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও মূল আসামিরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে সহযোগি ৩ আসামিকে গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সিএনজি এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে মূল আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয় নেতা-কর্মিদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিহত মিরুর বড় ভাই রেজাউল করিম হিরু বলেন, আমার ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে অতি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। আলোচিত এই ঘটনায় মূল আসামিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার হতাশা প্রকাশ করছি।

এদিকে ভিপি মিরু হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে প্রতিদিনই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা। মানববন্ধনে নেতা কর্মিরা ফারুক হোসেন মিরু হত্যা মামলার মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ড কার্যকরের দাবী জানান।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আসলাম হোসেন জানান, মিরু হত্যায় ব্যবহৃত দুটি সিএনজি, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার ও সহযোগী ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা খুব তারাতারি গ্রেফতার হয়ে যাবে। আসামীদের গ্রেফতারে আমরা আমাদের সর্বচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ১২ টার দিকে স্থানীয় সাংসদ কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের বাড়ির একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন মিরু ও তার বন্ধু আলমাস খান দুটি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদের পাশের চৌরাস্তায় পৌছালে দুটি সিএনজি তাদের গতিরোধ করে। পরে ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী দল মিরুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। মিরুকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরের দিন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মিরুর বড় ভাই রিয়াজুল করিম হিরু বাদী হয়ে (৩ মার্চ) সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. দুলালকে প্রধান আসামি করে তার পাঁচ ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনের নামে থানায় মামলা ধায়ের করেন। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি সিএনজি ও ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- প্রধান আসামির মোল্লা মো. দুলালের ছোট ভাই ইমরান মোল্লা, সোহান মোল্লা ও সিএনজি চালক ইমান আলী। গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, প্রধান আসামি সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. দুলাল, তার বড় ভাই উপজেলা পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আঙ্গুর, আলাল উদ্দিন, হিমেল, হৃদয় ও আমীনুর রহমান। তাদের সবার বাড়ি পৌরসভার আজিমপুর গ্রামে।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share