ব্রাজিল জিতলেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ!
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে বেশ কিছু কথিত বিশ্লেষকও মনে করেন ফিফা বিশ্বকাপ সাজানো। তবে তা তখনই মনে করেন, যখন আর্জেন্টিনা জয় লাভ করে। অথচ একইভাবে ব্রাজিল জয় পেলেও তখন ফিফার দোষ নয়, নিজেদের দলের যোগ্যতার বন্দনায় মেতে ওঠেন তারা।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা গেছে ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে। অথচ সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স, তবুও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টিনা। অনেকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন—পুরো আসরটাই নাকি ফিফার পরিকল্পিত নাটক!
ভিন্ন নয় এবারের বিশ্বকাপেও; একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা বড় কোনো বিতর্কের পেনাল্টি না পেলেও, নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের নাম সামনে এলেই শুরু হয় একদলের সমালোচনা—ফিফা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সহজ পথ তৈরি করে দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল উরুগুয়ে কিংবা স্পেনের মতো শক্তিশালী দল। কিন্তু চমক দেখিয়ে কেপ ভার্দে উরুগুয়েকে বিদায় করে এবং স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেরাই নকআউটে জায়গা করে নেয়। সেই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের দায়ও অনেকে ফিফার ওপরে চাপিয়ে দিচ্ছে!
অন্যদিকে, যখন কঠিন লড়াইয়ের পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পায়, তখন সেই অভিযোগগুলোই যেন হঠাৎ করে হারিয়ে যায়। সর্বশেষ জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয় সেলেসাওরা। সেই জয়কে ঘিরে প্রশংসার বন্যা বয়ে গেলেও শোনা যায়নি ‘ফিফার সাজানো বিশ্বকাপ’—এমন কোনো কথা।
ফুটবলে সমালোচনা থাকতেই পারে, রেফারিকে নিয়েও বিতর্ক উঠতে পারে; কিন্তু একই ঘটনার ক্ষেত্রে দলভেদে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করলে সেই সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—আসলেই কি ফিফা শুধু আর্জেন্টিনা জিতলেই সাজানো নাটক? আর ব্রাজিল জিতলেই সবকিছু স্বাভাবিক ও োগ্রহণযোগ্য?










