পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমুদ্র স্নানে হাজারো পূন্যার্থী

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমুদ্র স্নানে হাজারো পূন্যার্থী

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতে আজ, ৩০ এপ্রিল ২০২৫, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে হাজারো পূণ্যার্থী সমবেত হয়ে সমুদ্রস্নানে অংশ নিয়েছেন।  হিন্দু পঞ্জিকার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই স্নান ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় পালিত হয়।

আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের আয়োজনে ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় পূজা-অর্চনা, আহ্বানী, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘাট স্থাপন, শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজা ও গঙ্গা মায়ের পূজা।  এরপর সকাল ১১টায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়।  এই তিথিতে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্মদিন হওয়ায় এটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীগুরু প্রাণপুরুষ শ্রীশ্রী জয়দেব ঠাকুর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরের সহধর্মিণী জগৎমাতা হরপ্রিয়া দেবী ও পরমপূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী।  অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিহার রঞ্জন, ভক্ত প্রভাষক শ্রী সঞ্জয় মন্ডল, ভক্ত শ্রী মাষ্টার শ্যামল চন্দ্র মালো, মাস্টার গোবিন্দ কুমার দেবনাথ, অধ্যাপক সঞ্জয় মন্ডল, বাসুদেব রায়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত জয়দেব ভক্তবৃন্দ।

স্নান শেষে অনেক পূণ্যার্থী পরিবার নিয়ে গীতা পাঠ, প্রার্থনা ও ধর্মীয় রীতিতে মগ্ন হন।  ঢাকা থেকে আগত কনিকা রায় বলেন, “এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য অর্জন করা যায়। এই তিথিতে স্বয়ং নারায়ণের বাস থাকে গঙ্গায়। তাই যদি এই তিথিতে গঙ্গায় স্নান করা হয় তাহলে জীবন থেকে দুঃখ, রোগব্যাধি একেবারে মুছে যায় এবং জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।”

মন্তব্য প্রদান করুন

Share