দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আশ্রয় দাতা ওয়ার্ড কমিশনার খোকন

দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আশ্রয় দাতা ওয়ার্ড কমিশনার খোকন

রাজধানীর ৩৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার তৈমুর রেজা খোকন এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি দখল,চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয়, সহ নানা অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৩৬ ওয়ার্ড হাতিরঝিল এর মধুবাগ,মীরবাগ এলাকায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর বরাদ্ধকৃত ১৪ কোটি টাকায় নির্মান করা হয় একটি কমিউনিটি সেন্টার । যার নাম করা হয় “বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল কমপ্লেক্স।

জানা যায়, কমপ্লেক্সটি নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানটিও কমিশনার তৈমুর রেজা খোকনের। এটি নির্মাণে করা হয় ব্যাপক দুর্নীতি ।যার ফলা ফল হিসেবে দেখা যায় , নির্মাণের অল্প কিছু দিনের মধ্যে কমপ্লেক্সটির উত্তর পাশের দেয়াল ইতি মধ্যে হেলে পড়েছে।
এমনকি হালকা ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে ভবনের জানালার গ্লাস ।
কমিউনিটি সেন্টার টি নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দৈনিক ভাড়া বাবদ ৩৫ হাজার টাকা কমিশনারের নিজের পকেটে জমা হচ্ছে ।

যদিও নিয়ম অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে তা জমা হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে কমিশনার খোকনের নেতৃত্বে রয়েছে ভূমিদস্যু বাহিনী। মধুবাগ ঝিলপার এলাকায় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু বাহিনীর মাধ্যমে জমি দখল করা যেন তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। জানা যায়, ঝিলপাড় এলাকার মৃত আবু সালেকের ৩৫৭/২১/এ এর বাড়িটি ভূমিদস্যু হাজি শাহিন কমিশনার তৈমুর রেজা খোকন এর সহযোগীতায় দখল করে।

কমিশনার খোকনের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ ও রয়েছে। মধুবাগ কাঁচা বাজার থেকে দৈনিক ২০০ টি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা তোলেন তার একান্ত সহকারী (পি এস) শিবলরি মাধ্যমে। এছাড়াও মীরবাগ কাঁচাবাজার থেকে দৈনিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন কমিশানর এর অনুগত চিহ্নিত চাঁদাবাজ জনতা ফারুক ওরফে ফেন্সি ফারুক। একই ব্যাক্তির মাধ্যমে চাঁদা তোলা হয় এলাকাটির ফুটপাত থেকেও।মধুবাগ ঝিলপাড় এলাকার পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক সম্রাট যুবলীগ নেতা রেকজি বাবুল তার ছেরে রাসেল কমিশনার খোকনের মাদক রাজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী। তারা একাধিক বার পুলিশের হাতে আটক হলেও কমিশনারের সরাসরি তদবিরে বার বার ছাড়া পেয়ে যায়। তবে গত মাসে এই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে বিপুল পরিমাণ মাদক সহ হাতে নাতে আটক করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এছাড়াও মধুবাগ,ঝিলপাড়, মীরবাগ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী – বারো মাতা শাহিন, জনতা ফারুক, রাসেল, কালা ওরফে আবুল কালাম কালা কমিশনার তৈমুর রেজা খোকন এর অন্যতম অনুসারী বলে জানা যায়।

রাজধানীর ৩৬ নং ওয়ার্ডের আলোচিত এই কমিশনার এর রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এদের মধ্যে রয়েছে আলোচিত যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যা মামলার আসামী যুবলীগ নেতা তেজগাঁও এর রফিক, শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। এছাড়া কমিশনার খোকনের ডান হাত যুবলীগ সভাপতি কাশেম এর ছোট ভাই সালাম শীর্ষ সন্ত্রাসী রনির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে তার শেল্টারে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। আলোচিত যুবলীগ নেতা ইব্রাহীত হত্যার আসামী “কালা” এখন কমিশার তৈমুর রেজা খোকন এর বডিগার্ড হিসেবে তার পাশে থাকে। আর এই কালার মাধ্যমে ই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন তার আন্ডার ওয়ার্ল্ড।
এ ব্যপারে হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ বলেন, যে কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
কমিশনার তৈমুর রেজা খোকন এর এসব কর্মকান্ড সম্পর্কে ৩৬ নং আওয়ামীলীগ সভাপতি শামসুজ্জামান শামসু বলেন, তার এসব অপকর্মের ঘটনা এখন এলাকায় ওপে সিক্রেট । আমি দলীয় ভাবে বিভিন্ন জায়গায় তার এসব কুকর্মের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার তৈমুর রেজা খোকন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা ভিত্তিহীন।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share