নাঃগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পদে জাকির খানকে চায় তৃণমূল নেতা কর্মীরা

নাঃগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পদে জাকির খানকে চায় তৃণমূল নেতা কর্মীরা

নাঃগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে অন্যতম ত্যাগী ও আপোষহীন নেতা জাকির খান এমনি দাবী জেলার তৃনমূল বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের । হামলা -মামলা, রাজনৈতিক নিপীড়নের কারনে দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকার পরেও সরকার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম, দলীয় কর্মকান্ড সহ সামাজিক প্রতিটি কাজে এখনো সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে নাঃগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপি নেতা জাকির খান ও তার অনুসারীরা।

দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় আড়ালে থাকা জাকির খান বছরখানেক পূর্বে  থাইল্যান্ড থেকে ভারতে এসে তার দলের কয়েকশ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আজমীর শরীফ ও বম্বের শাহ্ আলীর মাজার শরীফ জিয়ারত কালে তার ছবি সহ সংবাদ প্রকাশ করে “টুডে টাইমস”।

সেসময় তিনি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেন বলে জানা যায়। সংবাদে জাকির খানের ছবি টুডে টাইমস এ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই নাঃগঞ্জ বিএনপির তৃনমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে জাকির খান ফের আলোচনার ঝড় তুলে ।

তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্যমতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নাসিক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, মহানগর বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল, জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, মনিরুল আলম সেন্টু সহ অনেক বিএনপি নেতা সরকার দলের এমপি, শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা রয়েছে।

তবে জেলা বিএনপির তৃণমূলে আলোচনা রয়েছে জাকির খান ই একমাত্র ব্যাক্তি যিনি তার দলের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারন করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ন্যায় আজ অবধি আপোষহীন ভূমিকায় রয়েছেন । তৃণমূল বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বর্তমান সরকারের সাথে গভীর সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছে।

পাশাপাশি এই বর্ষীয়ান বিএনপি নেতার সাথে রয়েছে নাঃগঞ্জের সরকার দলীয় এক প্রভাবশালী এমপির সু সম্পর্ক। সূত্রের দাবী, ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের ওই প্রভাবশালী এমপি বিভিন্ন টকশো, দলীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই বলে থাকেন যে নাঃগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ কয়েক জন নেতা রয়েছে যারা দিনের বেলায় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে মাইক ফাটিঁয়ে ফেলে অথচ রাতের বেলায় আবার ফোন করে ক্ষমা চাইতেও দ্বিধাবোধ করে না ।

বিএনপির ত্যাগী,পরীক্ষিত তৃন মূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ এই ধরনের মীর জাফর প্রকৃতির নেতাদের কারনে নাঃগঞ্জ জেলা বিএনপি আজ নড়বড়ে অবস্হানে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নাঃগঞ্জ বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা রয়েছে যারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের নামে রাজপথে নেমে শুধু ফটোসেশন করে ই নিরাপদ পরিসরে চলে যায় অথচ ত্যাগী,পরীক্ষিত নেতা কর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থেকে পুলিশী নির্যাতন, মামলা -হামলার শিকার হচ্ছে ।

সুত্রের দাবী, জাকির খানের নির্দেশে তার অনুসারী হাজার হাজার নেতা কর্মীরা নাঃ গঞ্জের রাজপথে দলীয় প্রধান বেগম জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমান সহ জাকির খান এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করে যাচ্ছে, পুলিশী নির্যাতন, হামলা -মামলা উপেক্ষা করে জাকির খানের অনুসারীরা যেভাবে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে এর তিল পরিমান সক্রিয়তা দেখা যায় নি এডভোকেট তৈমুর আলম সহ বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতা ও তাদের কর্মীদের মধ্যে ।

যে কারনে এসকল নেতাদের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। তৃণমূল বিএনপির অভিমত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন জাকির খান ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা দলীয়, সামাজিক কর্মকান্ডে যে ভাবে নিবেদিত ছিলো প্রবাস জীবনে থাকা জাকির খানের নির্দেশে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, অনুসারীরা এখনো তেমনিভাবে সক্রিয় রয়েছে ।

অতি সম্প্রতি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী গণসংযোগে জাকির খানের নির্দেশে তার অনুসারীরা নিয়মিত অংশগ্রহন করেছে, পাশাপাশি নাঃগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি রয়েছে খান অনুসারীদের ।

সুত্রের দাবী ,নাঃগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতা ই রয়েছে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে স্হানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারের দালালী করে আবার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপির বড় বড় পদ বাগিয়ে নিয়ে আসেন দলের কিছু অসাধু নেতাদের মাধ্যমে। অথচ জাকির খান ই একমাত্র নেতা যিনি দলীয় প্রধান বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও দলের স্বার্থে আপোষহীন ভূমিকায় রয়েছেন আজ অবধি।

বিএনপির তৃনমূলের ত্যাগী,পরীক্ষিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করেন জেলা বিএনপিতে জাকির খান কে শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত করা হলে এ জেলায় বিএনপি আরো শক্তিশালী হবে। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সহ সরকার বিরোধী আন্দোলন -সংগ্রামে নাঃগঞ্জ বিএনপি আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে ।

তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানায়, বিগত ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামান কে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কে সাধারন সম্পাদক ঘোষনা করে নাঃগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি দেওয়া হলেও ৩ বছরে এ কমিটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, আন্দোলন সংগ্রামে তারা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারে নি ,অথচ কমিটি বাণিজ্যের নামে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা ।

আর এ কারনেই দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা সহ অনেক নেতা কর্মীরা পদ বঞ্চিত হয়েছেন। তারা মনে করেন, জাকির খান সহ পদ বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ই এখন পর্যন্ত নাঃগঞ্জ বিএনপি কে রাজনৈতিক ভাবে চাঙ্গা করে রেখেছেন।

বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান পদ থাকা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার , আতাউর রহমান মুকুল, শওকত হাশেম শকু, আজাদ বিশ্বাস, মনিরুল আলম সেন্টু দের মতো দু’মুখো ব্যক্তিদের নাঃগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে দেওয়া হলে এ জেলার বিএনপি ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে আর ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা নীরবে নিভৃতে হারিয়ে যাবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। এমনটি মনে করছেন তৃলমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share