করোনা নিয়ে রাজনীতি না করতে কাদেরের অনুরোধ

করোনা নিয়ে রাজনীতি না করতে কাদেরের অনুরোধ

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এটা সারাবিশ্বের গণস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা। অনেক দেশে আক্রান্ত হচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি বলেই এটা আমাদের দেশে বিস্তার হয়নি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নামে সংগঠনটি আজকে আন্দোলন, নির্বাচনে ব্যর্থ। আজকে তারা আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে বেগম জিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে, ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনাভাইরাস নিয়েও তারা সেই নিকৃষ্ট রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি তাদের (বিএনপি) অনুরোধ করব এ ধরণের একটা মানবিক ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনীতির বিষোদগার করা থেকে বিরত থাকবে। সব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যারা সরকারের আন্তরিকতায় ঘাটতি খুঁজে তারা রাজনৈতিক কারণে এটা করছে।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয়ভাবে এ বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করব। আমাদের মধ্যে আজকে কর্মসম্পর্ক পর্যন্ত নেই, এমন পরিস্থিতি আজকে বিএনপি ৭৫-এর পর থেকে সৃষ্টি করেছে। ২১ আগস্টে কর্মসম্পর্কের অলঙ্ঘনীয় দেয়াল আরও উঁচু করেছে।

এ সময় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাসের উপস্থিতির সঙ্গে সরকার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ সবার আগে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রস্তুতির ব্যাপারে কোনো ঘাটতি আমাদের নেই। যে কারণে ইতালি থেকে যে দু’জন প্রবাসী এসেছে, প্রস্তুতি আছে বলেই তাদের সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়েছে। তাদের ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের দু’জন থেকে আর একজনের আক্রান্ত হয়েছে, তার বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া নতুনভাবে আক্রান্তের খবর নেই। সরকার সার্বিকভাবে এ ব্যাপারে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। সরকারের প্রমাণ এখানেই মুজিববর্ষের মত এরকম আয়োজন শতবর্ষ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষিকী অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্ধান্ত নিয়ে করেছেন। আজকে মানুষ জীবন আগে, তারপর অনুষ্ঠান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরণের সভা সমাবেশ এবং সেমিনার বন্ধ থাকবে। এ সময় ঘরোয়া কর্মসূচিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

আগামী জুন মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ এবং যুব মহিলা লীগকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন শেষ করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share