করোনায় অসহায়-গরীব ৪৮৪৯ পরিবারের পাশে নাসিক প্যানেল মেয়র বিভা

করোনায় অসহায়-গরীব ৪৮৪৯ পরিবারের পাশে নাসিক প্যানেল মেয়র বিভা

প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ : করোনা ভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জেই প্রথম দেশের তিনজন রোগীর মধ্যে দুইজন শনাক্ত হয়েছিল। ৮ মার্চ থেকে দেশে ক্রমেই করোনার ভয় জেকে বসতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ৭ এপ্রিল লকডাউন করা হয় নারায়ণগঞ্জকে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষের পাশে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই এগিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা। করোনা দুর্যোগের শুরু থেকে শনিবার (২ মে) পর্যন্ত ৪৮৪৯টি দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। বিতরণ করা এসব ত্রাণের মধ্যে ১৯৩৪ টি পরিবারে সরকারি ত্রাণ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২৯১৫টি পরিবারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

 

করোনার এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্যানেল মেয়র বিভা যে শুধু ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন এমনটি নয়। করোনা আক্রান্ত এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলেই পরিবারের লোকজনসহ এলাকাবাসী কাছে আসতেননা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একজন নারী হয়েও এগিয়ে এসেছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় গিটারিস্ট হিরুর মৃতদেহ কয়েকঘন্টা পড়ে থাকে। এগিয়ে আসেনি কেউ, উল্টো লাশবাহী এম্বুল্যান্সও আটকে রাখে লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন কাউন্সিলর বিভা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন ব্যক্তিকে প্রথম দাফনের ব্যবস্থাও তিনি করেছেন। সকাল থেকে রাত অবধি মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সারাদিন খাটাখাটুনির পর নিজের দুইবছরের শিশুকেও করোনা ঝুঁকির কারণে কোলে নিতে পারছেননা। অবশ্য এমন পরিশ্রমে ইতিমধ্যেই মানুষের মন জয় করে ফেলেছেন তিনি।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা বলেন, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমি আমার ১৬, ১৭ ও ১৮ ওয়ার্ডে ছুটে বেড়াচ্ছি মানুষের সহযোগিতা করার জন্য। মানুষের যে পরিমাণ সাহায্যের প্রয়োজন সেতুলনায় যোগান কম। নিজের ব্যক্তিগত অর্থে মানুষকে ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্দেশনায় সরকারি ত্রাণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে নিষ্ঠার সাথে বিতরণ করে যাচ্ছি। শুধু যে করোনা আক্রান্ত রোগী কিংবা লাশ দাফনের কাজে এগিয়ে আসতে হচ্ছে এমনটি নয়, সাধারণ মৃত্যুতেও মানুষ আতঙ্কিত । যার ফলে সেখানেও ছুটে যেতে হচ্ছে। লকডাউনে আটকে পড়ায় অনেক মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। যার ফলে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনার শুরু থেকে এই পর্যন্ত সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে ৪৮৪৯টি দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। এই সংকটময় মুহুর্ত্ব না কেটে যাওয়া পর্যন্ত আমি মানুষের পাশে আছি, থাকবো। আমার এলাকায় কেউ না খেয়ে থাকবেনা, আমি জানা মাত্রই তার কাছে সাহায্যের হাত পৌঁছে যাবে।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share