প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ৪৭ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; স্বপ্ন, সম্ভবনা, রুপান্তর

মনিরুজ্জামান তুহিন,ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মধ্যবর্তী স্থানে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর যাত্রা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খাতা পূর্ণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৭ তম বছরে পা রাখছে। শিক্ষা-বিনির্মাণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ৮টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি ও ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন আমাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

‘‘৪৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়: স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রগতির নতুন দিগন্তে”—

‘৪৭ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমায় থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রগতির একটি কেন্দ্র। একজন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আমি দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যজ্ঞানেই নয়, মানবিকতা, নেতৃত্ব, সমাজ ভাবনা এবং পরিবর্তনের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলছে। ৪৭ বছরে আমাদের প্রাপ্তি অনেক। জ্ঞানচর্চার বিস্তার, গবেষণা সুযোগ, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকাশ—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেধাকেন্দ্র। তবে আমাদের চাওয়া এখানেই শেষ নয়।
আমরা চাই—আরও সমৃদ্ধ গবেষণার পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা, এবং এমন একটি ক্যাম্পাস যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
একজন সংগঠক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি—যে বিশ্ববিদ্যালয় তার তরুণদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের মূল্য দেয়, সে বিশ্ববিদ্যালয়ই সমাজকে বদলে দেয়। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা বাড়ানো, এবং সকলে মিলে এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলা যা সময়কে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার একটাই প্রত্যাশা—এই প্রতিষ্ঠান যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে বিশ্বমানের এক উজ্জ্বল শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় হোক আমাদের ভাবনা, প্রেরণা এবং উন্নয়নের শক্তি।’ —

[সাজিয়া তাসনিম আপন,
বুননের সভাপতি]

“ভোক্তাবান্ধব ও গবেষণাবান্ধব ক্যাম্পাস গঠন জরুরি”—

‘৪৭ বছরে পদার্পণ করা প্রিয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়—সবুজে মোড়া এই মনোরম ক্যাম্পাসটি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হওয়ার সবটুকু সম্ভাবনা ধারণ করে। তবুও নানান অনিয়মের দীর্ঘ খাতা দেখে এখনো অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমার একান্ত কামনা আর কোনো শিক্ষার্থী যেন সাজিদের মতো নির্মমতার শিকার না হয়; সাজিদের হত্যাকারী নরপিশাচরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—একটি সুন্দর, নিরাপদ, ডিজিটাল ক্যাম্পাস এবং সুষ্ঠু ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতে পারে সেরা উপহার। একটি ছাত্রবান্ধব, ভোক্তাবান্ধব ও গবেষণাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিক।’—
[ত্বকী ওয়াসীফ,
সিওয়াইবি’র সভাপতি ]

“অর্জন–চ্যালেঞ্জের মাঝে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা”—

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে নানান চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে ৪৭ তম বছরে পদার্পণ করল। এটি যেমন গৌরবের বিষয় তেমনি শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামগত উন্নয়ন, এবং সুস্থ সংস্কৃতির ঘাটতি বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। স্বাধীনতার পর প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হলেও আবাসিক সিট সংকট, অনলাইন আধুনিকীকরণ, এবং বিভাগীয় সেশন জটের সমস্যায় জর্জরিত। যেখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ক্যাম্পাস, গবেষণা কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় কে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান মুখী শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক রাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলা। আমরা এমন বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এসব বৈশিষ্ট্য থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে ।যা বর্তমান বিশ্বের সাথে টিকিয়ে থাকতে শিক্ষার্থীদের মনোবলকে অনেকটা দুর্বল করে রেখেছে। সাতচল্লিশ বছরের পথ পরিক্রমায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়েছে, অনেক কিছু অর্জন করেছে। শিক্ষা, গবেষণা, স্বাধীন চিন্তা এবং মূল্যবোধের ধারক হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ ও জাতির উন্নয়নে আরও শক্তিশালী ভূমিক রাখুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ইতিবাচক ভাবনা এবং উন্নয়ন-দৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আগামীদিনে একটি সত্যিকারের বিশ্বমানের প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলি আমরা বিশ্বাস করি।’ —

[ শহীদ উল্লাহ,
ক্যাপ সভাপতি, ]

“লোকদেখানো নয় বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি”—

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সাথে মেলবন্ধন তৈরি করা। তথা ইসলামী শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা। ইসলাম যে একটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম মাধ্যম সেটা যেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের নানান সামাজিক কর্মকান্ড এবং সোশালিজম এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বের নানা প্রান্তে, এটি আমার শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের নিকট একমাত্র চাওয়া পাওয়া থাকবে। আমরা আমাদের অবস্থান নিয়ে নানান সময় সংকোচ বোধ করি এবং সেটিকে আমরা সমর্থন করি। সে ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আমার আবেদন থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু মাত্র জ্ঞান বিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে সাংস্কৃতিক ও আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে উপযোগী করার সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শুধুমাত্র লোক দেখানো কাজ নয় বরং শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর কিছু করা। এছাড়াও টিএসসিসির বাজেট বাড়ানো এবং একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলতে দেওয়া। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা টিকে থাকে ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে। যে প্রশাসন বিপ্লবের মাধ্যমে এসেছে সে প্রশাসন যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এবং আমাদের প্রত্যাশা থেকেও বেশি যেন কাজ করে।’ —

[ নাঈমুল ফারাবী,
অভয়ারণ্য সভাপতি ]

“গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস ও গবেষণার উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা উচিত”—

‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই ৪৭ বছরের যাত্রায় আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি—এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র নয় বরং মানবিকতা, গবেষণা, নেতৃত্ব এবং সেবা মনোভাব গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী অনুষঙ্গ। রক্তিমার মতো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠনগুলো এখানে জন্ম নিয়েছে, বিকশিত হয়েছে এবং হাজারো মানুষের জীবনে আলো জ্বালানোর সুযোগ পেয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ৪৭ বছরে আমাদের চাওয়া–পাওয়া অনেক। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় যেন আরও রিসার্চ-বেইজড স্টাডি-কে গুরুত্ব দেয়। আজকের বিশ্বে উন্নত গবেষণা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান আগাতে পারে না। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, গবেষণা ফান্ড, আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এবং মেন্টরশিপ পায়—এটাই সময়ের দাবি। গবেষণা যত শক্তিশালী হবে, ততই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, এখন সময় এসেছে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ আয়োজনের। একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অত্যন্ত প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব তৈরি হয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতে স্বেচ্ছাসেবা এবং মানবিকতার চর্চা আরও বিস্তৃত হওয়া জরুরি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই মানবিক উদ্যোগের জন্য পরিচিত।এই নৈতিক শিক্ষাটি আরও প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি। রক্তদান, সামাজিক সেবা, দুর্যোগে পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ শিক্ষার্থীদের মানবিক চরিত্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তিমা সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় এগিয়ে যাবে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হবে এবং মানবিকতায় সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। রক্তিমা সবসময় এই অগ্রগতির অংশ হয়ে থাকতে চায়।’ —

[সোহরাব উদ্দিন আহম্মেদ,
রক্তিমা’র সভাপতি ]

“পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পাস গঠন সময়ের দাবি”—

‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানমনষ্কতা এবং পরিবেশ সচেতনতার সামগ্রিক পাঠশালা। তাই আমি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যেখানে জ্ঞানচর্চা হবে মুক্ত, পরিবেশ হবে সবুজ, আর প্রতিটি শিক্ষার্থী বেড়ে উঠবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হবে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের এক আদর্শ উদাহরণ। যেখানে প্রতিটি গাছকে সম্মানের সাথে রক্ষা করা হবে। লেক, পুকুর, খেলার মাঠ হবে মুক্ত পরিবেশ নির্মলতার প্রতীক। প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, সাইক্লিং বান্ধব পরিবেশ গড়ার মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে চাই। আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জনেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখুক। গবেষণায় সমৃদ্ধ, মানবিকতায় পূর্ণ এবং নৈতিকতায় দৃঢ় একটি শিক্ষার পরিবেশ হোক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি। এমন একটি ক্যাম্পাস চাই যেখানে শ্রেণিকক্ষ, মাঠ, গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমানভাবে বিকশিত হবে। যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসন একসাথে কাজ করবে একটি সুন্দর, নিরাপদ, বৈষম্যহীন শিক্ষা পরিসর গড়ে তুলতে। একটি সবুজ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক বিশ্ববিদ্যালয়, যে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আজ নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও গর্বের সম্পদ হয়ে থাকবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশা করি।’ —

[মো: ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমন,
গ্রীন ভয়েজ, সভাপতি]

“আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম উপযোগী ক্যাম্পাস বিনির্মান”—

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের ৪৭ বছরে উপনীত হয়েছে। দীর্ঘ পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতার এক দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—একটি গবেষণাবান্ধব এবং জনকল্যাণমুখী পরিবেশ, যেখানে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে, শিক্ষার্থীরা সামাজিক কাজকর্মের উদ্ভুদ্ধ হবে, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ গড়ে উঠবে, এবং শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে। আমরা চাই—একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস, যেখানে ভিন্ন মতের প্রতি থাকবে শ্রদ্ধা, এবং সবার জন্য থাকবে সমান সুযোগ। প্রত্যাশা থাকবে এই বিশ্ববিদ্যালয় আগামীর নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।’ —

[মুরসালিন ইসলাম তুরান,
তারুণ্য’র সভাপতি]

“সামাজিক উন্নয়নে পথশিশু মুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে”—

‘কম ফর রোড চাইল্ড (সিআরসি) একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, যা পথশিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে।
পথশিশুদের পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত, একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ তৈরি, নৈতিক শিক্ষা প্রদান, সমাজের অপরাধচক্র থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত,
শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা, বাসস্থানহীন শিশুদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি, উৎসবমুখর বিনোদনের ব্যবস্থা করা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্ত শিশুদের পুনর্বাসন সহ সর্বোপরি পথশিশুমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করে সংগঠনটি।
এছাড়া সিআরসি অসহায় পরিবার, বৃদ্ধাশ্রমবাসী মায়েদের সহযোগিতা করে এবং সদস্যদের জন্য বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পাবলিক স্পিকিং, স্পোকেন ইংলিশ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য সংগঠনটি ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একাডেমিক পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যেন এসব সংগঠনের আর্থিক এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে।’ —

[মো. নাজমুল হাসান,
সিআরসি’র সভাপতি ]