অভিযোগের ব্যপারে জানেননা ওসি ,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস ডিআইজির

অভিযোগের ব্যপারে জানেননা ওসি ,ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস ডিআইজির

টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়ে ছিলেন লাকী বেগম নামে এক নারী। গত ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুককে ব্যবস্থানেয়ার লিখিত নির্দেশও দেন জেলা পুলিশ সুপার। তবে অভিযোগের ব্যপারে কিছুই জানেননা বলে টুডে টাইমস কে জানান ওসি কামরুল ফারুক। জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগে লাকী বেগম উল্লেখ করেন, তার বাবা সুলতান আহমেদ দীর্ঘ সময় প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি জমি বেচা কেনার ব্যবসা শুরু করেন। ভুক্তোভোগীর বাবা সুলতান আহমেদ মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা অবস্থায় অভিযোগে উল্ল্যেখিত ১ নাম্বার আসামী মাকসুদা বেগম নামের এক মহিলা সুলতান আহমেদ এর স্ত্রী পরিচয় দেয়। স্ত্রী পরিচয়কে গ্রহণযোগ্য করতে অনৈতিক ভাবে সহযোগিতা করে লাকী বেগমের চাচা ৫ নাম্বার আসামী গোলাম হোসেন । ভুক্তোভোগী উল্লেখ করেন তার বাবা সুলতান আহমেদ কে মাকসুদা বেগম ও গোলাম হোসেন জিম্মি করে তার সারা জীবনের সঞ্চয় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। উল্লেখিত টাকা ঢাকা পোষ্ট অফিসের সঞ্চয় হিসাব ব্যবহার করে আসামী মাকসুদা বেগম ও অন্য দুই আসামী শারমিন ও তানজিলা’র মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় লাকী বেগম এর বাবা সুলতান আহমেদ মারাত্মক ডায়াবেটিক আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে চিনি/মিষ্টি খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে হাসাপাতাল থেকে তার বাবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ভুক্তোভোগী লাকী বেগম সহ অন্য সদস্যদের নিয়ে ১ নাম্বার আসামী মাকসুদা বেগমের বাড়িতে যান। সেখানে সুলতান আহমেদ সকলের সামনে জবানবান্দি দেয় , যা ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন লাকী বেগম। এরপর থেকে সুলতান আহমেদ কে অমানবিক অত্যাচার শুরু করে এবং তার নাকে লাগানো খাবারের নলে অতিরিক্ত চিনি পানিতে মিশিয়ে প্রতিনিয়ত খাওয়াতে থাকে। এর ফলে অতি মাত্রায় সুলতান আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । চারদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পঞ্চম দিনে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে তিনি মারা যান।
লিখিত এ অভিযোগের ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুককে নির্দেশ দেন জেলা পুলিশ সুপার । তবুও তিনি অভিযোগটির ব্যপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী লাকী বেগম। তিনি বলেন, ওসি কামরুল ফারুক এর কাছে ২২ অক্টোবর অভিযোগটি সঙ্গে নিয়ে গেলে তিনি বলেন রেখে যান আমি দেখবো ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, অভিযোগ প্রসঙ্গে আমি কিছুই জানিনা।
অভিযোগ রয়েছে ওসি কামরুল ফারুক বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রুক্ষ ভাষায় টুডে টাইমস কে বলেন জরুরী কথা না থাকলে কি বলবো ?
এসব বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সহ জেলা পুলিশের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন দেয়া হলে তারা কেউ ই ফোন ধরেননি ।
এ সকল ব্যপারে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডি আইজি হাবিুবর রহমান (পিপিএম,বিপিএম বার) বলেন, লাকী বেগমের অভিযোগটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের রুক্ষ ভাষার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি এমনিতে ভালো তবে তার রুক্ষ আচরনের অভিযোগটি সঠিক।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share