অভিবাবকহীন নারীর উপকার করে উল্টো হয়রানির শিকার ২ নারী

অভিবাবকহীন নারীর উপকার করে উল্টো হয়রানির শিকার ২ নারী

ঢাকা মেডিকেল কলেজের হয়রানীর শিকার হয়ে ১০ ঘন্টা আটকে ছিলেন ২ নারী। একটি বেসরকারী ক্লিনিকের কর্নধার নাসরিন আক্তার নাহার ও তার বোন হাসিনা বেগমকে শিশু পাচারকারী আখ্যা দিয়ে ঢামেক কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে রাখে। তবে ঘটনার শুরু হয় প্রায় ১ মাস আগে।

জানা যায়, গর্ভবতী কুমিলা বেগম (৩০) শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার এই নারী প্রায় ১ মাস আগে নিজেকে অসহায় উল্লেখ করে সাহায্য চায় টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার নাহার মেডিকেল সেন্টারের মালিক নাসরিন আক্তার নাহার এর কাছে। গর্ভবতী হওয়ায় এবং স্বামী ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কুমিলা বেগমের সন্তান প্রসব ও স্বাস্থ্য সেবার দায়িত্ব নেন নাসরিন আক্তার নাহার। টঙ্গির প্রাইম জেনারেল হাসপাতাল সহ বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর গর্ভবতী কুমিলা বেগমের শারীরিক জটিলতা থাকায় টঙ্গী সরকারী হাসপাতাল থেকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।

সেখানেও পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও হাসপাতালে সহযোগীতা করা সহ সব ধরণের সেবা প্রদান করছিলে নাসরিন আক্তার । তবে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া কুমিলা বেগমকে ২ ডিসেম্বর ছাড়পত্র দেয় দায়িত্বরত চিকিৎসক। ছাড়পত্র নিয়ে কুমিলা বেগমের নবজাতক সন্তানকে সাথে নিয়ে মানবিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া নাসরিন আক্তার নাহার ও তার বোন হাসিনা আক্তার কে আনসার সদস্য মোঃ শামীম আহমেদ, মহিলা আনসার সদস্য ফাতিমা সহ একটি সুনির্দিষ্ট দল তাদের শিশু পাচারকারী আখ্যা দিয়ে দিনভর আটক রেখে হয়রানী করেন।

প্রায় ১০ ঘন্টা আটকে রেখে ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় তাদের হস্তান্তর করা হলে পুলিশি তদন্তে শিশু পাচারের বিষয়টি ভুয়া প্রমাণিত হয়।বিষয়টি সম্পর্কে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, নারীর পাচর নয় , বরং উপকার করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বারা হয়রানীর স্বীকার হয়েছেন নাসরিন আক্তার ও তার বোন হাসিনা বেগম। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওসি খালিদ মনসুর গর্ভবতি নারী কুমিলা বেগমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মেডিকেল চেকআপের সকল কাগজপত্র দেখেন এবং নাসরিন আক্তার নাহার এর সহযোগিতার বিষয়ে নিশ্চিত হন। পরবর্তীতে রাত ১০ টা নাগাদ উপকারী নারী নাসরিন আক্তার নাহার এর ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ ফাহিম এর জিম্মায় তার মা নাহার ও খালা হাসিনা বেগমকে হস্তান্তর করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

মন্তব্য প্রদান করুন

Share