তোলারাম কলেজে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরবর্তীতে কলেজে বিশেষ আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে সকালে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত দেশের প্রথম ‘জুলাই স্মৃতিসৌধে’ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ শহিদদের উদ্দেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর সকাল ১১টায় কলেজের শিক্ষা ক্যাডার অফিসার্স কাউন্সিলে এক বিশেষ আলোচনা ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই শহিদ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মো. মানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ক্যাডার অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ মঈনুল আশরাফ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন অংশ ছিল আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ও তাঁদের বক্তব্য। সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন: শহিদ মানিক মিয়ার পিতা জনাব মো. আনিস চৌধুরী,শহিদ মেহেদী হাসান নাঈমের মাতা জনাব নাসিমা বেগম,শহিদ মাহাদি হাসান পান্থের বড় ভাই জনাব মো. মেরাজ হোসেন।স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শহিদ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁদের স্বজনদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। এছাড়া কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দও আন্দোলনের সময়কার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
স্মৃতিচারণ পর্বে শহিদ মেহেদী হাসান নাঈমের মাতা নাসিমা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর সন্তান সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহিদ হলেও সরকারি গেজেটে এখনও তাঁর নাম যুক্ত হয়নি। তিনি দ্রুত সরকারি গেজেটে তাঁর সন্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের অসামান্য ও অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, শহিদদের এই ত্যাগ চিরকাল দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।










